ইবলীসকে আল্লাহ মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ সৃষ্টি করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার হায়াত দীর্ঘ করে দেন। মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিচ্যুৎ করার জন্য ও তাকে ধোঁকা দেওয়াই শয়তানের একমাত্র কাজ। সে মানুষকে বলে। কুফরী কর’ । কিন্তু যখন সে কুফরী করে, তখন শয়তান বলে আমি তােমার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্বপ্রভু আল্লাহকে ভয় করি’ (হাশর ৫৯/১৬)। অন্যদিকে যুগে যুগে নবী-রাসূল ও কিতাব পাঠিয়ে আল্লাহ মানুষকে সত্য পথ প্রদর্শনের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন (বাক্বারাহ ২/২১৩)। আদম থেকে শুরু করে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাযার পয়গাম্বর দুনিয়াতে এসেছেন এবং বর্তমানে সর্বশেষ এলাহীগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর কাহিনী ওলামায়ে কেরাম শেষনবীর ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে আল্লাহ প্রেরিত অহীর বিধান সমূহ বিশ্বব্যাপী পৌছে দেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন (মায়েদাহ ৫/৬৭)। পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংস তথা কিয়ামতের অব্যবহিত কাল পূর্ব পর্যন্ত এই নিয়ম জারি থাকবে। শেষনবীর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী পৃথিবীর এমন কোন বস্তি ও ঝুপড়ি ঘরও থাকবে না, যেখানে আল্লাহ ইসলামের বাণী পৌঁছে দেবেন না। এতদসত্ত্বেও অবশেষে পৃথিবীতে যখন ‘আল্লাহ’ বলার মত কোন লােক থাকবে না, অর্থাৎ প্রকৃত তাওহীদের অনুসারী কোন মুমিন বাকী থাকবে না, তখন আল্লাহর হুকুমে প্রলয় ঘনিয়ে আসবে এবং কিয়ামত সংঘটিত হবে।” মানুষের দেহগুলি সব মৃত্যুর পরে মাটিতে মিশে যাবে । কিন্তু রূহগুলি স্ব স্ব ভাল বা মন্দ আমল অনুযায়ী ইল্লীন' অথবা সিজ্জীনে অবস্থান করবে (মুত্বাফফেফীন ৮৩/৭, ১৮)। যা কিয়ামতের পরপরই আল্লাহ্র হুকুমে স্ব স্ব দেহে পুনঃপ্রবেশ করবে (ফজর ৮৯/২৯) এবং চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সকল মানুষ সশরীরে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দরবারে নীত হবে (মুত্বাফফফীন ৮৩/৪-৬)। মানুষের ঠিকানা হ’ল তিনটি : ১- দার দুনিয়া। অর্থাৎ যেখানে আমরা এখন বসবাস করছি ২- দারল বরযখ । অর্থাৎ মৃত্যুর পরে কবরের জগত। ৩দারুল্ল কারার। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন শেষ বিচার শেষে জান্নাত বা জাহান্নামের চিরস্থায়ী ঠিকানা। অতএব পৃথিবী হ’ল মানুষের জন্য সাময়িক পরীক্ষাগার মাত্র। জান্নাত থেকে নেমে আসা মানুষ এই পরীক্ষাস্থলে পরীক্ষা শেষে সুন্দর ফল লাভে পুনরায় জান্নাতে ফিরে যাবে, অথবা ব্যর্থকাম হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর সেখানেই হবে তাদের সর্বশেষ যাত্রাবিরতি এবং সেটাই হবে তাদের চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী ঠিকানা। আল্লাহ বলেন, ‘মার্টি থেকেই আমরা তােমাদের সৃষ্টি করেছি। ঐ মাটিতেই তােমাদের ফিরিয়ে নেব। অতঃপর ঐ মাটি থেকেই আমরা তােমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব’ (ত্বোয়াহা ২০/৫৫)। অতঃপর বিচার শেষে কাফেরদেরকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের দিকে এবং মুত্তাকীদের নেওয়া হবে জান্নাতে (যুমার ৩৯/৬৯-৭৩)। এভাবেই সেদিন যালেম তার প্রাপ্য শাস্তি ভােগ করবে এবং মযলুম তার যথাযথ প্রতিদান পেয়ে ধন্য হবে। সেদিন কার প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না (বাক্বারাহ ২/২৮১)। উল্লেখ্য যে, হযরত আদম (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ১০টি সূরায় ৫০টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।” এক্ষণে আদম সৃষ্টির ঘটনাবলী কুরআনে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার আলােকে সার-সংক্ষেপ আমরা তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।


0 Comments