Header ADS

ইসলামে হালাল ও হারাম






মহান আলল্গাহতায়ালা মানুষকে একমাত্র তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের চলাফেরা, আচার-আচরণ, পারস্পরিক লেনদেনসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। মানুষ দাসত্ব করবে একমাত্র মহান আলল্গাহতায়ালার। আর এ দাসত্ব অর্থাৎ মানুষের সবধরনের ইবাদত মহান আলল্গাহর দরবারে কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে হালাল বা বৈধ উপায়ে উপার্জন করা আর যাবতীয় হারাম থেকে বিরত থাকা। ইসলামে হালাল ও হারাম অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পৃথিবীর সব আসমানি গ্রন্থেই হালাল ও হারামের বিষয়টি বর্ণিত রয়েছে। হালাল-হারামের বিষয়গুলো নির্ধারণ করার এখতিয়ার শুধু মহান আলল্গাহতায়ালার। ইহকালীন জীবনে ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কাজগুলো হালাল আর যে কাজগুলো ইসলামে নিষিদ্ধ, তাই হারাম।

পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে যেসব বিষয়কে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তা হালাল বা বৈধ। অন্য কথায়- হালাল অর্থ বৈধ, উপকারী ও কল্যাণকর বস্তু। মানুষের জন্য যা কিছু উপকার ও কল্যাণকর ওই সব কর্ম ও বস্তুকে আলল্গাহতায়ালা মানুষের জন্য হালাল করেছেন। যেমন- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পর্দা ও আলল্গাহ নির্দেশিত ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। অন্যদিকে, কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে যেসব বিষয়কে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় তা হারাম বা নিষিদ্ধ। অন্য কথায়, হারাম অর্থ অবৈধ, ক্ষতিকারক, অকল্যাণকর কর্ম ও বস্তু, যা মানুষের জন্য অপকারের বা ক্ষতির কারণ। ওই সব কর্ম বা বস্তুকে আলল্গাহতায়ালা হারাম করেছেন। যেমন- শূকরের মাংস মানুষের জন্য ক্ষতিকারক, সুদ, ঘুষ, বেনামাজি, বেপর্দা ও সব ধরনের অন্যায় ও পাপকর্ম ইত্যাদি। হারাম কাজ করলে আলল্গাহর শাস্তি নির্ধারিত বিধায় এ ধরনের কাজ বর্জন করাও বাধ্যতামূলক। যেমন- সুদ খাওয়া, গিবত করা বা অপবিত্র কিছু খাওয়া বা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য করা। হালাল ও হারাম বিধানের উদ্দেশ্য হচ্ছে- বিশ্ব মানবতার কল্যাণ সাধন এবং অকল্যাণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। হালাল বিধান মেনে চলার মাধ্যমেই বান্দার জন্য রয়েছে- আত্মার কল্যাণ, দেহের কল্যাণ এবং বিবেক-বুদ্ধির সুস্থতা; যা দ্বীন ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এতে মহান আলল্গাহতায়ালা বান্দার প্রতি রহমত ও বরকত দান করেন।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি হারাম কাজ করে তার অন্তরাত্মা কলুষিত হয়। বিবেকসত্তা ও ইমানি শক্তি লোপ পেয়ে যায়। এক কথায় সে ইসলাম থেকে অনেক দূরে সরে যায়। আলল্গাহতায়ালার রহমত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হয়। মানুষ কীভাবে উপার্জন করবে, কোন পন্থায় তা ব্যয় করবে এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে যাবতীয় অর্জনীয় ও বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান। আলল্গাহতায়ালা ফরজ ইবাদত সমাপনান্তে জীবিকা নির্বাহে উপার্জন করার লক্ষ্যে জমিনে ছড়িয়ে পড়তে নির্দেশ দিয়ে সুরা জুমআর ১০ আয়াতে এরশাদ করেন- 'সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আলল্গাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আলল্গাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' ফরজ ইবাদতগুলো আদায়ের পর বৈধ ও প্রয়োজনীয় কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও বৈধ উপায় অবলম্বন করা সব মানুষের ওপর ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান। হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। অর্থ-সম্পদ দ্বারাই মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার ফলে তার দেহের বৃদ্ধি ঘটে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ হয়। কিন্তু এ খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ের অর্থ যদি অবৈধ উপায়ে উপার্জিত হয়, তবে তা কীভাবে বৈধ শারীরিক বৃদ্ধি হতে পারে? তার শরীরের রক্তে ও মাংসে অবৈধ বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটে। এর দ্বারা যত ইবাদতই করা হোক না, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেননা আলল্গাহ অপবিত্র কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। অতএব, হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে শিরোধার্য। সালাত, জাকাত ও হজ ইত্যাদি ফরজ ইবাদতগুলো কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই বৈধ পন্থায় উপার্জন করতে হবে।

হালাল উপার্জন দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত- এ মর্মে ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে- "রাসুলে কারিমের (সা.) কাছে একদা এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা হলো। 'হে মানবমণ্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ করো।' তখন সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন : হে আলল্গাহর রাসুল, আলল্গাহর কাছে দোয়া করুন, যেন আমার দোয়া কবুল হয়। রাসুল (সা.) বললেন- হে সা'দ, তোমার পানাহারকে হালাল করো, তবে তোমার দোয়া কবুল হবে।'' হালাল উপার্জনে বরকত লাভ হয়। কেননা বরকতদানের মালিক মহান আলল্গাহ। তিনি শুধু বৈধ উপার্জনকেই বরকতময় করেন। আর যাবতীয় অবৈধ উপার্জন থেকে বরকত উঠিয়ে নেন। অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জনকারীর জন্য জাহান্নাম অবধারিত। হাদিসে বর্ণিত- রাসুল (সা.) বলেছেন : 'যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোজখের আগুনই উত্তম।' অপর এক হাদিসে বর্ণিত- রাসুল (সা.) বলেছেন :'যে শরীর হারাম পেয়ে হূষ্টপুষ্ট হয়েছে, তা জান্নাতে যাবে না।'

আমাদের রুজি-রোজগার যখন পূত-পবিত্র হবে, তখনই তা হালাল ও সিদ্ধ হবে। মহান আলল্গাহতায়ালা আমাদের যাবতীয় হারাম থেকে বিরত থেকে পবিত্র ও হালাল রিজিক উপার্জনের তৌফিক দান করুন

Post a Comment

0 Comments